Dhaka শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬, ৪ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কুমিল্লায় মাজার ভাঙচুর-আগুন: ২২০০ জনের বিরুদ্ধে মামলা

  • অনলাইন ডেস্ক
  • Update Time : ০৩:৩৯:১০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৫
  • ১৮৪ Time View

কুমিল্লার হোমনা উপজেলায় ধর্ম অবমাননার অভিযোগ তুলে মাইকে ঘোষণা দিয়ে চারটি মাজারে হামলা ও আগুনের ঘটনায় অজ্ঞাত ২ হাজার ২০০ জনকে আসামি করে মামলা করা হয়েছে। হোমনা থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) তাপস কুমার সরকার বাদী হয়ে বৃহস্পতিবার রাতে মামলাটি করেন।

এসআই তাপস কুমার সরকার জানান, মব সৃষ্টি করে ধর্মীয় স্থাপনায় হামলা, ভাংচুর ও আগুনের ঘটনায় অজ্ঞাত ২ হাজার ২০০ জনকে আসামি করে মামলা করা হয়েছে। এরই মধ্যে মামলার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। কিছু দূর কাজও হয়েছে। পরে বিস্তারিত জানানো হবে।

বৃহস্পতিবার দুপুরের দিকে উপজেলার আসাদপুর ইউনিয়নের আসাদপুর গ্রামে অভিযুক্ত মহসীনের দাদা কফিল উদ্দিন শাহ্-র মাজার, তার পাশেই আবদু শাহর মাজার, কালাই (কানু) শাহর মাজার এবং হাওয়ালি শাহর মাজারে ভাঙচুর করা হয়। এছাড়া হাওয়ালি শাহর মাজার চত্বরেও আগুন দেওয়া হয়।

হোমনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ রফিকুল ইসলাম বলেন, মূলত ধর্ম নিয়ে কটূক্তিমূলক পোস্ট দেওয়ার অভিযোগে জনতার দাবির পরিপ্রেক্ষিতে এক যুবককে গ্রেপ্তার করে আদালতের সোপর্দ করা হয়। এরপরও বিক্ষুব্ধ লোকজন মাজারে ভাঙচুর ও আগুন ধরিয়ে দিয়েছে। ফেসবুক পোস্ট হওয়ার দেড় ঘণ্টার মধ্যে অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করেও মব ঠেকানো যায়নি। এটি খুবই দুঃখজনক।

রফিকুল ইসলাম বলেন, ঘটনার পর থেকে আসাদপুর এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

হোমনার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ক্ষেমালিকা চাকমা বৃহস্পতিবার বিকেলে বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এ ঘটনায় ধর্ম অবমাননার অভিযোগে মো. মহসীন (৩৫) নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তিনি উপজেলার ফকিরবাড়ির আলেক শাহর ছেলে।

স্থানীয়রা জানান, বুধবার বেলা ১১টার দিকে ‘বেমজা মহসিন’ নামের একটি আইডি থেকে মহানবী হযরত মুহাম্মদকে (সাঃ) কটূক্তি করে একটি পোস্ট দেওয়া হয়। এতে এলাকার লোকজন ক্ষুব্ধ হয়। তখন তারা মহসীনের আটকের দাবিতে বিক্ষোভ শুরু করেন। বিক্ষোভের মুখে পুলিশ মহসীনকে আটক করে থানায় নিয়ে আসে।

ওই দিন সন্ধ্যায় বাংলাদেশ ইসলামী যুব সেনা হোমনা উপজেলা শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক মো. শরীফুল ইসলাম মহসীনের বিরুদ্ধে ধর্ম অবমাননার অভিযোগে হোমনা থানায় মামলা করেন। পরে সেই মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে মহসীনকে বৃহস্পতিবার আদালতে পাঠানো হয়।

এর জেরে বৃহস্পতিবার মাইকে ঘোষণা দিয়ে মাজারগুলোতে ভাঙচুর ও আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জনপ্রিয় খবর

ডিএসসিসির উদ্যোগে ফুলে ভরে উঠলো ঢাকা মেডিকেল কলেজের সামনের ফুটপাত; দীর্ঘমেয়াদি সংরক্ষণে সকলের সহযোগিতা চাইলেন প্রশাসক

কুমিল্লায় মাজার ভাঙচুর-আগুন: ২২০০ জনের বিরুদ্ধে মামলা

Update Time : ০৩:৩৯:১০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৫

কুমিল্লার হোমনা উপজেলায় ধর্ম অবমাননার অভিযোগ তুলে মাইকে ঘোষণা দিয়ে চারটি মাজারে হামলা ও আগুনের ঘটনায় অজ্ঞাত ২ হাজার ২০০ জনকে আসামি করে মামলা করা হয়েছে। হোমনা থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) তাপস কুমার সরকার বাদী হয়ে বৃহস্পতিবার রাতে মামলাটি করেন।

এসআই তাপস কুমার সরকার জানান, মব সৃষ্টি করে ধর্মীয় স্থাপনায় হামলা, ভাংচুর ও আগুনের ঘটনায় অজ্ঞাত ২ হাজার ২০০ জনকে আসামি করে মামলা করা হয়েছে। এরই মধ্যে মামলার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। কিছু দূর কাজও হয়েছে। পরে বিস্তারিত জানানো হবে।

বৃহস্পতিবার দুপুরের দিকে উপজেলার আসাদপুর ইউনিয়নের আসাদপুর গ্রামে অভিযুক্ত মহসীনের দাদা কফিল উদ্দিন শাহ্-র মাজার, তার পাশেই আবদু শাহর মাজার, কালাই (কানু) শাহর মাজার এবং হাওয়ালি শাহর মাজারে ভাঙচুর করা হয়। এছাড়া হাওয়ালি শাহর মাজার চত্বরেও আগুন দেওয়া হয়।

হোমনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ রফিকুল ইসলাম বলেন, মূলত ধর্ম নিয়ে কটূক্তিমূলক পোস্ট দেওয়ার অভিযোগে জনতার দাবির পরিপ্রেক্ষিতে এক যুবককে গ্রেপ্তার করে আদালতের সোপর্দ করা হয়। এরপরও বিক্ষুব্ধ লোকজন মাজারে ভাঙচুর ও আগুন ধরিয়ে দিয়েছে। ফেসবুক পোস্ট হওয়ার দেড় ঘণ্টার মধ্যে অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করেও মব ঠেকানো যায়নি। এটি খুবই দুঃখজনক।

রফিকুল ইসলাম বলেন, ঘটনার পর থেকে আসাদপুর এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

হোমনার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ক্ষেমালিকা চাকমা বৃহস্পতিবার বিকেলে বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এ ঘটনায় ধর্ম অবমাননার অভিযোগে মো. মহসীন (৩৫) নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তিনি উপজেলার ফকিরবাড়ির আলেক শাহর ছেলে।

স্থানীয়রা জানান, বুধবার বেলা ১১টার দিকে ‘বেমজা মহসিন’ নামের একটি আইডি থেকে মহানবী হযরত মুহাম্মদকে (সাঃ) কটূক্তি করে একটি পোস্ট দেওয়া হয়। এতে এলাকার লোকজন ক্ষুব্ধ হয়। তখন তারা মহসীনের আটকের দাবিতে বিক্ষোভ শুরু করেন। বিক্ষোভের মুখে পুলিশ মহসীনকে আটক করে থানায় নিয়ে আসে।

ওই দিন সন্ধ্যায় বাংলাদেশ ইসলামী যুব সেনা হোমনা উপজেলা শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক মো. শরীফুল ইসলাম মহসীনের বিরুদ্ধে ধর্ম অবমাননার অভিযোগে হোমনা থানায় মামলা করেন। পরে সেই মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে মহসীনকে বৃহস্পতিবার আদালতে পাঠানো হয়।

এর জেরে বৃহস্পতিবার মাইকে ঘোষণা দিয়ে মাজারগুলোতে ভাঙচুর ও আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়।