সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলায় সেচ লাইসেন্সকে ঘিরে গড়ে উঠেছে এক ভয়াবহ দুর্নীতির নেটওয়ার্ক। অভিযোগ উঠেছে, প্রভাবশালী একটি চক্র সেচ সংযোগকে পুঁজি করে সাধারণ কৃষকদের জিম্মি করে দীর্ঘদিন ধরে চালিয়ে যাচ্ছে ঘুষের বাণিজ্য।
এই চক্রের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন দায়িত্বপ্রাপ্ত উপ-সহকারী প্রকৌশলী ইলিয়াস হোসেন—এমনটাই দাবি ভুক্তভোগীদের। তাদের অভিযোগ, সেচ সংযোগ অনুমোদন, বহাল রাখা কিংবা বাতিল না করার শর্তে তিনি নিয়মিতভাবে মোটা অংকের টাকা আদায় করছেন।
একাধিক ভুক্তভোগীর অভিযোগ অনুযায়ী, লাইসেন্স বাতিলের ভয় দেখিয়ে জোরপূর্বক টাকা নেওয়া হচ্ছে। টাকা না দিলে সেচ সংযোগ বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়।
ভুক্তভোগী এক কৃষক জানান, ফসল বাঁচাতে গিয়ে তিনি বাধ্য হয়ে প্রায় ৭ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা ঘুষ দিয়েছেন।
সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো, এ ধরনের অভিযোগ একাধিকবার উত্থাপিত হলেও কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। বরং অভিযোগকারীরাই উল্টো চাপ ও ভয়ভীতির মুখে পড়ছেন। ফলে অসহায় কৃষকরা নীরবে দুর্নীতির শিকার হলেও মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছেন না।
অনুসন্ধানে আরও উঠে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। একই পরিবারের মধ্যে একাধিক সেচ সংযোগ অনুমোদনের অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয় সূত্র জানায়, মো: আলতাফ গায়ানের দুই ছেলে ইকরামুল ও ইমদাদুল হকের নামে পৃথকভাবে দুটি সংযোগ দেওয়া হয়েছে, যা ঘুষের বিনিময়ে হয়েছে বলে এলাকায় ব্যাপকভাবে আলোচিত।
শুধু এই একটি পরিবার নয়,
অভিযোগ রয়েছে, এলাকায় আরও অনেকের নিকট থেকে অবৈধভাবে অর্থ আদায় করে সেচ পাম্প, সংযোগ বিতরণ করা হচ্ছে। ফলে প্রকৃত কৃষকরা সেচ সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন, আর অর্থবিত্তশালী ও প্রভাবশালীরা পাচ্ছেন বাড়তি সুবিধা।
এদিকে, সেচ লাইসেন্স বাতিল নিয়েও রয়েছে রহস্যজনক সিদ্ধান্ত। পূর্বে অনুমোদিত লাইসেন্স পরবর্তীতে হঠাৎ একতরফাভাবে বাতিল করে প্রতিপক্ষকে সুবিধা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে, যা প্রশাসনিক স্বচ্ছতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলেছে।
স্থানীয় সচেতন মহলের ভাষ্য,
“এটি কোনো বিচ্ছিন্ন দুর্নীতি নয়—এটি একটি সুসংগঠিত ‘ঘুষ সিন্ডিকেট’, যেখানে প্রশাসনিক ক্ষমতা ব্যবহার করে কৃষকদের জিম্মি করে অর্থ আদায় করা হচ্ছে।
কৃষকদের অভিযোগ,
ঘুষ ছাড়া সেচ সংযোগ পাওয়া যায় না
লাইসেন্স বাতিলের ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করা হয়
অভিযোগ করলেও প্রতিকার মেলে
এ ঘটনায় দ্রুত উচ্চপর্যায়ের নিরপেক্ষ তদন্তের জোর দাবি উঠেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই দুর্নীতি বন্ধ না হলে কৃষি উৎপাদন মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে এবং গ্রামীণ অর্থনীতি বড় ধরনের সংকটে পড়বে।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত কর্মকর্তার বক্তব্য জানার চেষ্টা করা হলেও তা পাওয়া যায়নি।
Reporter Name 

















