Dhaka শনিবার, ০৬ জুন ২০২৬, ২২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি কোরবানির বর্জ্য অপসারণ করলো ডিএসসিসি; ৩ দিনে অপসারিত হলো ৩৬,০৮৬ টন বর্জ্য

পবিত্র ঈদুল আযহার পশুর হাট ও কোরবানির বর্জ্যের নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি বর্জ্য অপসারণ করেছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন (ডিএসসিসি)। ঈদের দিন থেকে গতকাল (৩০ মে) রাত ১২টা পর্যন্ত মাতুয়াইল ল্যান্ডফিলে মোট ৩৬,০৮৬ টন বর্জ্য চূড়ান্তভাবে ডাম্পিং করা হয়েছে, যেখানে প্রাথমিক লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল ৩৩,৯৪২ টন। আজ রবিবার নগর ভবনে অনুষ্ঠিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এ তথ্য তুলে ধরেন ডিএসসিসি প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ আবদুস সালাম।

৩ দিনের বর্জ্য অপসারণের পরিসংখ্যান:
• প্রথম দিন: ১৪,৮১৪ টন
• দ্বিতীয় দিন: ৮,৯৭৭ টন
• তৃতীয় দিন: ১২,২৯৫ টন
• মোট অপসারিত বর্জ্য: ৩৬,০৮৬ টন

ব্রিফিংয়ে জানানো হয়, এই বিশাল কর্মযজ্ঞ সফল করতে ডিএসসিসির নিজস্ব ও পিসিএসপি (PCSP)-সহ মোট ১৩,৪৫৩ জন কর্মী মাঠপর্যায়ে দিনরাত কাজ করেছেন। বর্জ্য পরিবহনে ৩৮২টি বিশেষ যান-যন্ত্রপাতিসহ মোট ২,১১৭টি ছোট-বড় গাড়ি ব্যবহার করা হয়েছে। এছাড়া ডিএসসিসি নির্ধারিত ৩৫৭টি স্থানে গত তিন দিনে মোট ১৭,৩১৫টি পশু কোরবানি করা হয়।

নাগরিক সচেতনতা ও সহযোগিতা:

ঈদের আগে জাতীয় দৈনিকে গণবিজ্ঞপ্তি, টিভিসি, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এবং ওয়ার্ড পর্যায়ে ব্যাপক মাইকিংয়ের মাধ্যমে সচেতনতা চালানো হয়েছিল। নাগরিকদের উদ্বুদ্ধ করতে ৭৫টি ওয়ার্ডে ৪৬ টন ব্লিচিং পাউডার, ২১০ গ্যালন (১০৫০ লিটার) স্যাভলন এবং ১ লাখ ৪০ হাজার বায়োডিগ্রেডেবল ব্যাগ বিতরণ করা হয়। সচেতন নাগরিকেরা বর্জ্য ব্যাগে ভরে নির্দিষ্ট স্থানে রেখে পরিচ্ছন্নতা কর্মীদের দারুণ সহযোগিতা করেছেন। সচেতনতার এই ইতিবাচক পরিবর্তন ধরে রেখে একটি পরিচ্ছন্ন ঢাকা বিনির্মাণ সম্ভব বলে আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়। পাশাপাশি মাঠপর্যায়ে সার্বক্ষণিক নিয়োজিত থেকে সংবাদ প্রচারের মাধ্যমে কর্মীদের মনোবল বৃদ্ধি এবং বস্তুনিষ্ঠভাবে ত্রুটি-বিচ্যুতি তুলে ধরার জন্য গণমাধ্যমকর্মীদের প্রতি বিশেষ ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করা হয়।

ইজারাদারদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা:

কোরবানির ১১টি অস্থায়ী হাটের বর্জ্য অপসারণে শর্ত অনুযায়ী ইজারাদাররা নির্ধারিত সময়ে কাজ না করায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করা হয়। জনভোগান্তি এড়াতে সিটি কর্পোরেশন নিজ দায়িত্বে এসব বর্জ্য অপসারণ করেছে, যা সামগ্রিক কার্যক্রমকে কিছুটা শ্লথ ও চ্যালেঞ্জিং করেছিল। এর পরিপ্রেক্ষিতে শর্তভঙ্গকারী ইজারাদারদের জামানত বাজেয়াপ্ত ও কালো তালিকাভুক্ত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি আগামী বছর থেকে হাটের জামানতের অঙ্ক উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ানোর ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। জনভোগান্তি তৈরিকারীদের বিন্দুমাত্র ছাড় দেওয়া হবে না বলে সতর্ক করা হয়।

১ ঘণ্টার মধ্যে বর্জ্য অপসারণের ঘোষণা:

কোরবানির কার্যক্রম সমাপ্ত হলেও ডিএসসিসির তদারকি টিম এখনো মাঠপর্যায়ে সক্রিয় রয়েছে। ডিএসসিসি এলাকার কোথাও কোনো বর্জ্য জমে থাকতে দেখলে তাৎক্ষণিকভাবে কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ কক্ষের নম্বর: ০১৭০৯৯০০৮৮৮ এবং ০২২২৩৩৮৬০১৪-এ জানানোর জন্য অনুরোধ করা হয়েছে। সংবাদ পাওয়ার মাত্র ১ ঘণ্টার মধ্যে উক্ত বর্জ্য অপসারণ করা হবে বলে জানানো হয়।

টানা তিনদিন কোরবানি, যত্রতত্র চামড়া ফেলে রাখা এবং মাতুয়াইল ল্যান্ডফিলে যাওয়ার পথে যাত্রাবাড়ী অংশের তীব্র যানজটের কারণে সৃষ্ট সাময়িক ও অনাকাঙ্ক্ষিত ত্রুটি-বিচ্যুতির জন্য প্রশাসক নগরবাসীর কাছে আন্তরিক দুঃখ প্রকাশ করেন। একই সাথে আশ্বস্ত করা হয় যে, ঢাকাকে একটি ‘ক্লিন সিটি, গ্রিন সিটি’ হিসেবে গড়ে তুলতে সরকার বদ্ধপরিকর এবং নাগরিক সেবায় কোনো গাফিলতি বরদাশত করা হবে না।

সবশেষে, আসন্ন বর্ষা মৌসুমে ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও জলাবদ্ধতা নিরসনেও নগরবাসী ও গণমাধ্যমকে একইভাবে ডিএসসিসিকে সহযোগিতা করার আহবান জানানো হয়।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

babu babu

লিচু সংরক্ষণে আধুনিক ও স্বল্প খরচের গবেষণা কার্যক্রম হাতে নেবে সরকার: বাণিজ্যমন্ত্রী

নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি কোরবানির বর্জ্য অপসারণ করলো ডিএসসিসি; ৩ দিনে অপসারিত হলো ৩৬,০৮৬ টন বর্জ্য

Update Time : ০৬:৪৯:৩৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩১ মে ২০২৬

পবিত্র ঈদুল আযহার পশুর হাট ও কোরবানির বর্জ্যের নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি বর্জ্য অপসারণ করেছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন (ডিএসসিসি)। ঈদের দিন থেকে গতকাল (৩০ মে) রাত ১২টা পর্যন্ত মাতুয়াইল ল্যান্ডফিলে মোট ৩৬,০৮৬ টন বর্জ্য চূড়ান্তভাবে ডাম্পিং করা হয়েছে, যেখানে প্রাথমিক লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল ৩৩,৯৪২ টন। আজ রবিবার নগর ভবনে অনুষ্ঠিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এ তথ্য তুলে ধরেন ডিএসসিসি প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ আবদুস সালাম।

৩ দিনের বর্জ্য অপসারণের পরিসংখ্যান:
• প্রথম দিন: ১৪,৮১৪ টন
• দ্বিতীয় দিন: ৮,৯৭৭ টন
• তৃতীয় দিন: ১২,২৯৫ টন
• মোট অপসারিত বর্জ্য: ৩৬,০৮৬ টন

ব্রিফিংয়ে জানানো হয়, এই বিশাল কর্মযজ্ঞ সফল করতে ডিএসসিসির নিজস্ব ও পিসিএসপি (PCSP)-সহ মোট ১৩,৪৫৩ জন কর্মী মাঠপর্যায়ে দিনরাত কাজ করেছেন। বর্জ্য পরিবহনে ৩৮২টি বিশেষ যান-যন্ত্রপাতিসহ মোট ২,১১৭টি ছোট-বড় গাড়ি ব্যবহার করা হয়েছে। এছাড়া ডিএসসিসি নির্ধারিত ৩৫৭টি স্থানে গত তিন দিনে মোট ১৭,৩১৫টি পশু কোরবানি করা হয়।

নাগরিক সচেতনতা ও সহযোগিতা:

ঈদের আগে জাতীয় দৈনিকে গণবিজ্ঞপ্তি, টিভিসি, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এবং ওয়ার্ড পর্যায়ে ব্যাপক মাইকিংয়ের মাধ্যমে সচেতনতা চালানো হয়েছিল। নাগরিকদের উদ্বুদ্ধ করতে ৭৫টি ওয়ার্ডে ৪৬ টন ব্লিচিং পাউডার, ২১০ গ্যালন (১০৫০ লিটার) স্যাভলন এবং ১ লাখ ৪০ হাজার বায়োডিগ্রেডেবল ব্যাগ বিতরণ করা হয়। সচেতন নাগরিকেরা বর্জ্য ব্যাগে ভরে নির্দিষ্ট স্থানে রেখে পরিচ্ছন্নতা কর্মীদের দারুণ সহযোগিতা করেছেন। সচেতনতার এই ইতিবাচক পরিবর্তন ধরে রেখে একটি পরিচ্ছন্ন ঢাকা বিনির্মাণ সম্ভব বলে আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়। পাশাপাশি মাঠপর্যায়ে সার্বক্ষণিক নিয়োজিত থেকে সংবাদ প্রচারের মাধ্যমে কর্মীদের মনোবল বৃদ্ধি এবং বস্তুনিষ্ঠভাবে ত্রুটি-বিচ্যুতি তুলে ধরার জন্য গণমাধ্যমকর্মীদের প্রতি বিশেষ ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করা হয়।

ইজারাদারদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা:

কোরবানির ১১টি অস্থায়ী হাটের বর্জ্য অপসারণে শর্ত অনুযায়ী ইজারাদাররা নির্ধারিত সময়ে কাজ না করায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করা হয়। জনভোগান্তি এড়াতে সিটি কর্পোরেশন নিজ দায়িত্বে এসব বর্জ্য অপসারণ করেছে, যা সামগ্রিক কার্যক্রমকে কিছুটা শ্লথ ও চ্যালেঞ্জিং করেছিল। এর পরিপ্রেক্ষিতে শর্তভঙ্গকারী ইজারাদারদের জামানত বাজেয়াপ্ত ও কালো তালিকাভুক্ত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি আগামী বছর থেকে হাটের জামানতের অঙ্ক উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ানোর ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। জনভোগান্তি তৈরিকারীদের বিন্দুমাত্র ছাড় দেওয়া হবে না বলে সতর্ক করা হয়।

১ ঘণ্টার মধ্যে বর্জ্য অপসারণের ঘোষণা:

কোরবানির কার্যক্রম সমাপ্ত হলেও ডিএসসিসির তদারকি টিম এখনো মাঠপর্যায়ে সক্রিয় রয়েছে। ডিএসসিসি এলাকার কোথাও কোনো বর্জ্য জমে থাকতে দেখলে তাৎক্ষণিকভাবে কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ কক্ষের নম্বর: ০১৭০৯৯০০৮৮৮ এবং ০২২২৩৩৮৬০১৪-এ জানানোর জন্য অনুরোধ করা হয়েছে। সংবাদ পাওয়ার মাত্র ১ ঘণ্টার মধ্যে উক্ত বর্জ্য অপসারণ করা হবে বলে জানানো হয়।

টানা তিনদিন কোরবানি, যত্রতত্র চামড়া ফেলে রাখা এবং মাতুয়াইল ল্যান্ডফিলে যাওয়ার পথে যাত্রাবাড়ী অংশের তীব্র যানজটের কারণে সৃষ্ট সাময়িক ও অনাকাঙ্ক্ষিত ত্রুটি-বিচ্যুতির জন্য প্রশাসক নগরবাসীর কাছে আন্তরিক দুঃখ প্রকাশ করেন। একই সাথে আশ্বস্ত করা হয় যে, ঢাকাকে একটি ‘ক্লিন সিটি, গ্রিন সিটি’ হিসেবে গড়ে তুলতে সরকার বদ্ধপরিকর এবং নাগরিক সেবায় কোনো গাফিলতি বরদাশত করা হবে না।

সবশেষে, আসন্ন বর্ষা মৌসুমে ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও জলাবদ্ধতা নিরসনেও নগরবাসী ও গণমাধ্যমকে একইভাবে ডিএসসিসিকে সহযোগিতা করার আহবান জানানো হয়।