Dhaka বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬, ২৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি চলবে ভ্রাম্যমাণ আদালত

ডেঙ্গু প্রতিরোধে দেশজুড়ে তিন মাসের বিশেষ অভিযান শুরু

ডেঙ্গু প্রতিরোধে নাগরিকদের সচেতনতা বৃদ্ধি, এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংস এবং পরিচ্ছন্ন পরিবেশ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে রাজধানীসহ দেশব্যাপী তিন মাসব্যাপী বিশেষ অভিযানের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়েছে। স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে এই বিশেষ কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়

​শনিবার (৬ জুন) সকালে রাজধানীর রবীন্দ্র সরোবরে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন (ডিএসসিসি) এলাকায় এ অভিযানের উদ্বোধন করেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম।

​অনুষ্ঠানে বক্তারা ডেঙ্গু প্রতিরোধে ব্যক্তিগত ও পারিবারিক সচেতনতার ওপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করেন। তারা বলেন, প্রতিটি নাগরিককে নিজ নিজ বাড়ির আঙিনা, ফুলের টব, ছাদ, বারান্দা, ড্রেন ও আশপাশের পরিবেশ নিয়মিত পরিষ্কার রাখতে হবে। কোথাও যেন কোনো অবস্থাতেই বৃষ্টির পানি বা অন্য কোনো পানি জমে না থাকে, সে বিষয়ে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকতে হবে। জমে থাকা এই স্বচ্ছ পানিই এডিস মশার প্রজননের প্রধান উৎস। তাই ডেঙ্গু প্রতিরোধে শুধু সরকারি উদ্যোগই যথেষ্ট নয়, বরং প্রতিটি পরিবার ও ব্যক্তির স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

​উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, “ডেঙ্গু প্রতিরোধে সরকার আজ থেকেই দেশজুড়ে মাইকিংসহ ব্যাপক সচেতনতামূলক প্রচারণা শুরু করছে। আমরা সবার কাছে এই বার্তাটি পৌঁছে দিতে চাই যে, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা এবং পানি জমতে না দেওয়াই ডেঙ্গু প্রতিরোধের সর্বোত্তম উপায়।”

​জনগণের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় সরকার কঠোর অবস্থানে রয়েছে উল্লেখ করে মন্ত্রী সতর্কবার্তা দিয়ে বলেন, “সচেতনতা বৃদ্ধির পরও যদি অবহেলা দেখা যায়, তবে আমরা কঠোরভাবে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করব। যেখানেই এডিস মশার লার্ভা পাওয়া যাবে, সেখানেই আইন অনুযায়ী সর্বোচ্চ জরিমানা করা হবে।”

​সভাপতির বক্তব্যে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম বলেন, ডেঙ্গুর বিস্তার রোধে নাগরিকদের ভূমিকাই সবচেয়ে অগ্রগণ্য। তিনি জানান, ডিএসসিসির নিজস্ব জরিপে ৭৫টি ওয়ার্ডের মধ্যে ২৮টি ওয়ার্ডকে উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এই ঝুঁকিপূর্ণ ওয়ার্ডগুলোতে আগামীকাল রবিবার থেকে এক সপ্তাহের বিশেষ ‘ক্রাশ প্রোগ্রাম’ শুরু হবে।

​তিনি আরও উল্লেখ করেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দুই মাস আগেই ডেঙ্গুর সম্ভাব্য ঝুঁকি সম্পর্কে সবাইকে সতর্ক করেছিলেন। সেই নির্দেশনা অনুযায়ী সিটি কর্পোরেশন ও স্বাস্থ্য বিভাগ যৌথভাবে পূর্বপ্রস্তুতি গ্রহণ করেছে।

​উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে স্বাস্থ্যমন্ত্রী এবং ডিএসসিসি প্রশাসক বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি, ধানমন্ডি সোসাইটি ও স্থানীয় বাসিন্দাদের অংশগ্রহণে ডেঙ্গু প্রতিরোধে একটি বর্ণাঢ্য সচেতনতামূলক র‍্যালিতে অংশ নেন।

এদিকে সকালে রবীন্দ্র সরোবরে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের অনুমোদনহীন মেলা উচ্ছেদ করা হয়েছে। সকালে রবীন্দ্র সরোবরে ডিএসসিসির নির্ধারিত প্রোগ্রামে উপস্থিত হয়ে ডিএসসিসি প্রশাসক অনুমোদনহীন মেলা দেখে ব্যাপক ক্ষোভ প্রকাশ করেন এবং তাৎক্ষণিক মেলাটি উচ্ছেদের নির্দেশ প্রদান করেন।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

babu babu

জনপ্রিয় খবর

নাগরিক সেবা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে গণশুনানির আয়োজন করেন ডিএসসিসি

সচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি চলবে ভ্রাম্যমাণ আদালত

ডেঙ্গু প্রতিরোধে দেশজুড়ে তিন মাসের বিশেষ অভিযান শুরু

Update Time : ০৩:৫৫:১০ অপরাহ্ন, রবিবার, ৭ জুন ২০২৬

ডেঙ্গু প্রতিরোধে নাগরিকদের সচেতনতা বৃদ্ধি, এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংস এবং পরিচ্ছন্ন পরিবেশ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে রাজধানীসহ দেশব্যাপী তিন মাসব্যাপী বিশেষ অভিযানের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়েছে। স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে এই বিশেষ কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়

​শনিবার (৬ জুন) সকালে রাজধানীর রবীন্দ্র সরোবরে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন (ডিএসসিসি) এলাকায় এ অভিযানের উদ্বোধন করেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম।

​অনুষ্ঠানে বক্তারা ডেঙ্গু প্রতিরোধে ব্যক্তিগত ও পারিবারিক সচেতনতার ওপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করেন। তারা বলেন, প্রতিটি নাগরিককে নিজ নিজ বাড়ির আঙিনা, ফুলের টব, ছাদ, বারান্দা, ড্রেন ও আশপাশের পরিবেশ নিয়মিত পরিষ্কার রাখতে হবে। কোথাও যেন কোনো অবস্থাতেই বৃষ্টির পানি বা অন্য কোনো পানি জমে না থাকে, সে বিষয়ে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকতে হবে। জমে থাকা এই স্বচ্ছ পানিই এডিস মশার প্রজননের প্রধান উৎস। তাই ডেঙ্গু প্রতিরোধে শুধু সরকারি উদ্যোগই যথেষ্ট নয়, বরং প্রতিটি পরিবার ও ব্যক্তির স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

​উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, “ডেঙ্গু প্রতিরোধে সরকার আজ থেকেই দেশজুড়ে মাইকিংসহ ব্যাপক সচেতনতামূলক প্রচারণা শুরু করছে। আমরা সবার কাছে এই বার্তাটি পৌঁছে দিতে চাই যে, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা এবং পানি জমতে না দেওয়াই ডেঙ্গু প্রতিরোধের সর্বোত্তম উপায়।”

​জনগণের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় সরকার কঠোর অবস্থানে রয়েছে উল্লেখ করে মন্ত্রী সতর্কবার্তা দিয়ে বলেন, “সচেতনতা বৃদ্ধির পরও যদি অবহেলা দেখা যায়, তবে আমরা কঠোরভাবে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করব। যেখানেই এডিস মশার লার্ভা পাওয়া যাবে, সেখানেই আইন অনুযায়ী সর্বোচ্চ জরিমানা করা হবে।”

​সভাপতির বক্তব্যে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম বলেন, ডেঙ্গুর বিস্তার রোধে নাগরিকদের ভূমিকাই সবচেয়ে অগ্রগণ্য। তিনি জানান, ডিএসসিসির নিজস্ব জরিপে ৭৫টি ওয়ার্ডের মধ্যে ২৮টি ওয়ার্ডকে উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এই ঝুঁকিপূর্ণ ওয়ার্ডগুলোতে আগামীকাল রবিবার থেকে এক সপ্তাহের বিশেষ ‘ক্রাশ প্রোগ্রাম’ শুরু হবে।

​তিনি আরও উল্লেখ করেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দুই মাস আগেই ডেঙ্গুর সম্ভাব্য ঝুঁকি সম্পর্কে সবাইকে সতর্ক করেছিলেন। সেই নির্দেশনা অনুযায়ী সিটি কর্পোরেশন ও স্বাস্থ্য বিভাগ যৌথভাবে পূর্বপ্রস্তুতি গ্রহণ করেছে।

​উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে স্বাস্থ্যমন্ত্রী এবং ডিএসসিসি প্রশাসক বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি, ধানমন্ডি সোসাইটি ও স্থানীয় বাসিন্দাদের অংশগ্রহণে ডেঙ্গু প্রতিরোধে একটি বর্ণাঢ্য সচেতনতামূলক র‍্যালিতে অংশ নেন।

এদিকে সকালে রবীন্দ্র সরোবরে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের অনুমোদনহীন মেলা উচ্ছেদ করা হয়েছে। সকালে রবীন্দ্র সরোবরে ডিএসসিসির নির্ধারিত প্রোগ্রামে উপস্থিত হয়ে ডিএসসিসি প্রশাসক অনুমোদনহীন মেলা দেখে ব্যাপক ক্ষোভ প্রকাশ করেন এবং তাৎক্ষণিক মেলাটি উচ্ছেদের নির্দেশ প্রদান করেন।