Dhaka শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬, ৪ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বীর মুক্তিযোদ্ধা সংবর্ধনা- ২০২৬’ অনুষ্ঠিত

২৬শে মার্চ মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন কর্তৃক শনিবার  (২৮ শে মার্চ) নগর ভবনে ‘বীর মুক্তিযোদ্ধা সংবর্ধনা- ২০২৬’ অনুষ্ঠিত হয়েছে। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আহমেদ আযম খান, এমপি।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের মাননীয় প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা জনাব মোঃ আবদুস সালাম। সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে ঢাক মহানগরীর প্রায় দেড় হাজার বীর মুক্তিযোদ্ধা অংশগ্রহণ করেন।

জাতীয় পতাকা উত্তোলন ও জাতীয় সঙ্গীতের সাথে শুরু হওয়া এ অনুষ্ঠানে বীর শহিদগণের স্মরণে ১ (এক) মিনিট নিরবতা পালন ও মুক্তিযুদ্ধের উপর বিশেষ প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়।

পরবর্তীতে, বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মানার্থে সম্মাননা স্মারক, ফুলেল শুভেচছা ও উত্তরীয় প্রদান করা হয়। পরবর্তীতে, বীর মুক্তিযোদ্ধাদের পক্ষে একাত্তরের রণাঙ্গনের স্মৃতিচারণ করেন ক্যাপ্টেন নুরুল হুদা, সিটুসি, ৯নং সেক্টর; বীর মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কেন্দ্রীয় কমান্ড কাউন্সিলের আহ্বায়ক নঈম জাহাঙ্গীর ও সদস্য-সচিব সাদেক আহমেদ খান; জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা দলের আহ্বায়ক ইশতিয়াক আজীজ উলফাত এবং বিএনপির মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক সম্পাদক লেঃ কঃ (অবঃ) জয়নাল আবেদীনসহ প্রমুখ।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আযম খান বলেন, “আমাদের ঠিকানা মুক্তিযুদ্ধ এবং আমাদের ঠিকানা ৭১। আমাদের হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ অর্জন আমাদের স্বাধীনতা।”

রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট টেনে তিনি সতর্ক করে বলেন, “৯০ এর গণ-অভ্যুত্থানের মাধ্যমে স্বৈরাচারের পতন, ২৪-এর ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে ফ্যাসিবাদের পতন- এগুলো আমাদের বড় রাজনৈতিক অর্জন। স্বাধীন দেশে এই রাজনৈতিক অর্জনগুলোকে আমরা শ্রদ্ধা করি। তাই বলে এই অর্জনগুলোর সাথে আমরা যদি স্বাধীনতাকে সমানতালে মিলিয়ে ফেলি, তবে তা হবে আমাদের জন্য অনেক বড় বিপর্যয়ের কারণ। বাংলাদেশের স্বাধীনতা একবারই এসেছে, এর আগেও আসেনি, আবার পরেও আসবেনা।”

মন্ত্রী আরও জানান, তার নেতৃত্বে মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয় মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃত শহীদদের সংখ্যা, প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের এবং মুক্তিযুদ্ধবিরোধীদের সঠিক তালিকা প্রণয়নের মতো অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং কাজ করবে। এছাড়া মুক্তিযোদ্ধাদের বেতন-ভাতা, আবাসন ও চিকিৎসা সুবিধা নিশ্চিত করা মন্ত্রণালয়ের বিশেষ বিবেচনায় রয়েছে।

অনুষ্ঠানের সভাপতি ও ডিএসসিসি প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ আবদুস সালাম বলেন, “মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মান দেওয়া না হলে দেশ কখনো এগিয়ে যেতে পারে না। মুক্তিযোদ্ধাদের কোনো দল নেই, তাঁরা এদেশের।” তিনি আরও বলেন, “মুক্তিযোদ্ধারা দেশের মালিকানার একমাত্র দাবিদার হওয়া সত্বেও তারা দেশে সবসময় জনগণের মালিকানা প্রতিষ্ঠা করতে চেয়েছেন।”

তিনি আরও ঘোষণা দেন, “ভবিষ্যতে আমি মেয়র নির্বাচিত হলে ঢাকা মহানগরীর অস্বচ্ছল মুক্তিযোদ্ধাদের স্বচ্ছল করার পূর্ণ দায়িত্ব ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন নিবে।”

তিনি মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য বিনামূল্যে চিকিৎসা, আবাসন ও উন্নত পরিবহন সুবিধা নিশ্চিত করতে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।

সংবর্ধনা অনুষ্ঠান শেষে এক মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন পরিচালিত স্কুলের শিক্ষার্থীরা দেশাত্মবোধক গান ও নৃত্য পরিবেশন করেন। এছাড়া, বেবি নাজনীন, ইথুন বাবু, রিজিয়া পারভীন, মৌসুমি চৌধুরী ও শিবা শানুর মতো প্রথিতযশা শিল্পীরা পরিবেশনায় অংশগ্রহণ করেন। নগর ভবন প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত এ সংবর্ধনা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান সকাল ১০টায় শুরু হয়ে সন্ধ্যা ৭টায় শেষ হয়।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

babu babu

জনপ্রিয় খবর

ডিএসসিসির উদ্যোগে ফুলে ভরে উঠলো ঢাকা মেডিকেল কলেজের সামনের ফুটপাত; দীর্ঘমেয়াদি সংরক্ষণে সকলের সহযোগিতা চাইলেন প্রশাসক

বীর মুক্তিযোদ্ধা সংবর্ধনা- ২০২৬’ অনুষ্ঠিত

Update Time : ০৫:৫৩:৪৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৮ মার্চ ২০২৬

২৬শে মার্চ মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন কর্তৃক শনিবার  (২৮ শে মার্চ) নগর ভবনে ‘বীর মুক্তিযোদ্ধা সংবর্ধনা- ২০২৬’ অনুষ্ঠিত হয়েছে। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আহমেদ আযম খান, এমপি।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের মাননীয় প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা জনাব মোঃ আবদুস সালাম। সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে ঢাক মহানগরীর প্রায় দেড় হাজার বীর মুক্তিযোদ্ধা অংশগ্রহণ করেন।

জাতীয় পতাকা উত্তোলন ও জাতীয় সঙ্গীতের সাথে শুরু হওয়া এ অনুষ্ঠানে বীর শহিদগণের স্মরণে ১ (এক) মিনিট নিরবতা পালন ও মুক্তিযুদ্ধের উপর বিশেষ প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়।

পরবর্তীতে, বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মানার্থে সম্মাননা স্মারক, ফুলেল শুভেচছা ও উত্তরীয় প্রদান করা হয়। পরবর্তীতে, বীর মুক্তিযোদ্ধাদের পক্ষে একাত্তরের রণাঙ্গনের স্মৃতিচারণ করেন ক্যাপ্টেন নুরুল হুদা, সিটুসি, ৯নং সেক্টর; বীর মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কেন্দ্রীয় কমান্ড কাউন্সিলের আহ্বায়ক নঈম জাহাঙ্গীর ও সদস্য-সচিব সাদেক আহমেদ খান; জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা দলের আহ্বায়ক ইশতিয়াক আজীজ উলফাত এবং বিএনপির মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক সম্পাদক লেঃ কঃ (অবঃ) জয়নাল আবেদীনসহ প্রমুখ।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আযম খান বলেন, “আমাদের ঠিকানা মুক্তিযুদ্ধ এবং আমাদের ঠিকানা ৭১। আমাদের হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ অর্জন আমাদের স্বাধীনতা।”

রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট টেনে তিনি সতর্ক করে বলেন, “৯০ এর গণ-অভ্যুত্থানের মাধ্যমে স্বৈরাচারের পতন, ২৪-এর ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে ফ্যাসিবাদের পতন- এগুলো আমাদের বড় রাজনৈতিক অর্জন। স্বাধীন দেশে এই রাজনৈতিক অর্জনগুলোকে আমরা শ্রদ্ধা করি। তাই বলে এই অর্জনগুলোর সাথে আমরা যদি স্বাধীনতাকে সমানতালে মিলিয়ে ফেলি, তবে তা হবে আমাদের জন্য অনেক বড় বিপর্যয়ের কারণ। বাংলাদেশের স্বাধীনতা একবারই এসেছে, এর আগেও আসেনি, আবার পরেও আসবেনা।”

মন্ত্রী আরও জানান, তার নেতৃত্বে মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয় মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃত শহীদদের সংখ্যা, প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের এবং মুক্তিযুদ্ধবিরোধীদের সঠিক তালিকা প্রণয়নের মতো অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং কাজ করবে। এছাড়া মুক্তিযোদ্ধাদের বেতন-ভাতা, আবাসন ও চিকিৎসা সুবিধা নিশ্চিত করা মন্ত্রণালয়ের বিশেষ বিবেচনায় রয়েছে।

অনুষ্ঠানের সভাপতি ও ডিএসসিসি প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ আবদুস সালাম বলেন, “মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মান দেওয়া না হলে দেশ কখনো এগিয়ে যেতে পারে না। মুক্তিযোদ্ধাদের কোনো দল নেই, তাঁরা এদেশের।” তিনি আরও বলেন, “মুক্তিযোদ্ধারা দেশের মালিকানার একমাত্র দাবিদার হওয়া সত্বেও তারা দেশে সবসময় জনগণের মালিকানা প্রতিষ্ঠা করতে চেয়েছেন।”

তিনি আরও ঘোষণা দেন, “ভবিষ্যতে আমি মেয়র নির্বাচিত হলে ঢাকা মহানগরীর অস্বচ্ছল মুক্তিযোদ্ধাদের স্বচ্ছল করার পূর্ণ দায়িত্ব ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন নিবে।”

তিনি মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য বিনামূল্যে চিকিৎসা, আবাসন ও উন্নত পরিবহন সুবিধা নিশ্চিত করতে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।

সংবর্ধনা অনুষ্ঠান শেষে এক মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন পরিচালিত স্কুলের শিক্ষার্থীরা দেশাত্মবোধক গান ও নৃত্য পরিবেশন করেন। এছাড়া, বেবি নাজনীন, ইথুন বাবু, রিজিয়া পারভীন, মৌসুমি চৌধুরী ও শিবা শানুর মতো প্রথিতযশা শিল্পীরা পরিবেশনায় অংশগ্রহণ করেন। নগর ভবন প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত এ সংবর্ধনা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান সকাল ১০টায় শুরু হয়ে সন্ধ্যা ৭টায় শেষ হয়।