ঢাকার আশুলিয়ার দিয়াখালী মৌজায় জমি দখল, ভুয়া নামজারি এবং বিচারিক প্রক্রিয়াকে দীর্ঘায়িত করার অভিযোগে “মমতাজ স্মৃতি কল্যাণ পরিষদ”-এর বিরুদ্ধে গুরুতর অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, একটি প্রভাবশালী চক্র পরিকল্পিতভাবে একজন বৈধ মালিকের জমি দখল করে সেখানে হাসপাতাল স্থাপন করেছে।
তথ্য অনুসন্ধানে জানা যায়, বৈধ দলিল ও আদালতের রায়প্রাপ্ত জমির মালিক ফজলুল হক জীবনের শেষ সময় পর্যন্ত জমি ফিরে পাওয়ার লড়াই চালিয়ে গেছেন। ছয় সদস্যের পরিবার নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করতে করতে তিনি ২০২৩ সালের ৩ মার্চ মৃত্যুবরণ করেন। বর্তমানে তার স্ত্রী ও সন্তানরা চরম অসহায় অবস্থায় দিন কাটাচ্ছেন।
অন্যদিকে অভিযোগ রয়েছে, “মমতাজ স্মৃতি কল্যাণ পরিষদ”-এর মালিক জামিল উদ্দিন ফজলুল হকের জমির দলিল বাতিলের লক্ষ্যে একটি মামলা দায়ের করেন। মামলাটি দীর্ঘদিন ধরে চলমান রেখে বিতর্কিত জমিতে নারী ও শিশু হাসপাতাল স্থাপন করা হয়। ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, মামলার আড়ালে জোরপূর্বক দখল বজায় রাখা হয়েছে।
আরও অভিযোগ উঠে এসেছে, ফজলুল হক যখন অবৈধভাবে হাসপাতাল স্থাপনের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করেন, তখন প্রতিপক্ষ প্রভাব খাটিয়ে বিচারিক প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করে। এমনকি একটি মুচলেকায় উল্লেখ ছিল—ফজলুল হক আদালতের রায়ে জয়ী হলে হাসপাতালের জায়গা ছেড়ে দেওয়া হবে। কিন্তু অভিযোগ অনুযায়ী, সেই রায় আজও অদৃশ্য প্রভাবের বলয়ে ঝুলে আছে এবং বিচার প্রক্রিয়া বাস্তবায়িত হয়নি।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৩ সাল থেকে মামলাটি চলমান রেখে একটি কৃত্রিম “আইনি জটিলতা” সৃষ্টি করা হয়েছে, যা কার্যত জমির দখল ধরে রাখার কৌশল হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে।
ভূমি ও আইন বিশেষজ্ঞদের মতে—
আদালতের রায়প্রাপ্ত মালিকের জমিতে জোরপূর্বক দখল বজায় রাখা দণ্ডবিধির আওতায় ফৌজদারি অপরাধ।
একই জমিতে দ্বৈত নামজারি ও বিভ্রান্তিকর নথির ব্যবহার প্রতারণা ও জালিয়াতির শামিল।
মামলাকে দীর্ঘায়িত করে দখল ধরে রাখা “আইনের অপব্যবহার” হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।
এদিকে বিতর্কিত জমিতে স্থাপিত হাসপাতালের বৈধতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদন, লাইসেন্স এবং জমির মালিকানা যাচাই ছাড়া স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম পরিচালনা জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ক্ষমতার অপব্যবহার, প্রশাসনিক দুর্বলতা এবং বিচারিক প্রক্রিয়ার ধীরগতিকে কাজে লাগিয়ে একটি চক্র জমিটি দখলে রেখে দিয়েছে। এতে একদিকে যেমন একজন বৈধ মালিকের পরিবার নিঃস্ব হয়েছে, অন্যদিকে জনসেবার আড়ালে একটি অনিয়মকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়া হয়েছে।
প্রশ্নগুলো এখন ঘুরপাক খাচ্ছে—
আদালতের রায় থাকার পরও কেন জমি ফেরত দেওয়া হয়নি?
কীভাবে একই জমিতে একাধিক নামজারি বহাল থাকে?
অনুমোদনবিহীন হলে কীভাবে হাসপাতাল পরিচালিত হচ্ছে?
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন, ভূমি অফিস ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের জরুরি হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন স্থানীয়রা। তাদের মতে, দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত মালিকানা নিশ্চিত করা এবং দখলদারদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা আরও বাড়বে।
এ বিষয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালককে অবহিত করা হলে তিনি জানান, অভিযোগটি গুরুত্বসহকারে নিয়ে তদন্তপূর্বক দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এদিকে ভুক্তভোগী পরিবার বিষয়টি সমাধানে সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। তারা প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করে ন্যায়বিচার প্রত্যাশা করছেন।
নিজস্ব প্রতিবেদক 




















