Dhaka শনিবার, ০৬ জুন ২০২৬, ২২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

যুদ্ধ বন্ধের দাবিতে গাজা সীমান্তে বিক্ষোভ ইসরাইলিদের

অবরোধ তুলে নেয়াসহ দ্রুত যুদ্ধ বন্ধের দাবিতে গাজা সীমান্তে জড়ো হয়ে এবার বিক্ষোভ করলেন শতশত ইসরাইলি। এসময় ইসরাইলের নিরাপত্তা কর্মকর্তারা বিক্ষোভকারীদের হাতে থাকা প্ল্যাকার্ড ছিঁড়ে ফেলার পাশাপাশি বেশ কয়েকজনকে আটক করলে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। এসময় নেতানিয়াহু প্রশাসনকে ক্ষমতাচ্যুত করতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বানও জানান অনেকে।

দ্বি-রাষ্ট্র সমাধানে ফিলিস্তিনের পক্ষে সমর্থন জোরালো করতে বিশ্ব নেতারা যখন জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশমুখী, ঠিক তখনই অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় আগ্রাসনের মাত্রা কয়েকগুণ বাড়িয়েছে ইসরাইল। হত্যা ও ধংসযজ্ঞ ছাড়াও জোর করে বাস্তুচ্যুত করা হচ্ছে নিরীহ ফিলিস্তিনিদের।

এ অবস্থায় ফিলিস্তিনিদের সমর্থনে বিশাল ব্যানার ও প্ল্যাকার্ড হাতে নেতানিয়াহু প্রশাসনের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন খোদ ইসরাইলিরাই। শ্লোগান দিতে দিতে গাজা সীমান্তে জড়ো হয়েছেন ইসরাইলি বিক্ষোভকারীরা। দাবি জানাচ্ছেন গাজায় যুদ্ধ ও গণহত্যা বন্ধের।

গাজার পক্ষে সীমান্তে জড়ো হওয়া ইসরাইলিদের দমাতে তাদের হাতে থাকা প্ল্যাকার্ড ছিঁড়ে ফেলতে দেখা গেছে নেতানিয়াহু প্রশাসনের নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের। চলে ধরপাকড়ও। এতে গাজা-ইসরাইল সীমান্তে ছড়িয়ে পড়ে উত্তেজনা।

এই উত্তেজনার পারদ ছড়িয়ে পড়েছে ইসরাইল অধিকৃত পূর্ব জেরুজালেমেও। সেখানেও ফুঁসে উঠছেন বহু ইসরাইলি। শরীরে লাল কাপড়ে মুড়িয়ে এবং প্ল্যাকার্ড নিয়ে মাটিতে শুয়ে বিক্ষোভ করতে দেখা যায় তাদেরকে। এসময়, নেতানিয়াহু প্রশাসনকে ক্ষমতাচ্যুত করতে ঐক্যের ডাক দেন বিক্ষোভকারীরা।

বিক্ষোভকারীদের মধ্যে একজন বলেন, ‘অনেক মানুষ প্রাণ হারাচ্ছেন। এর মধ্যে শিশু ও নিরীহ মানুষই বেশি। আমাদের সৈন্যরা এমন একটি যুদ্ধ করে যাচ্ছে যার প্রকৃত কোন লক্ষ্য নেই। আমাদের অবশ্যই এর একটি সমাধানের পথ খুঁজে বের করতে হবে। আলোচনার মাধ্যমে এ যুদ্ধের অবসান ঘটাতে হবে।’

অন্য একজন বলেন, ‘এ যুদ্ধ বন্ধ করতে হবে এবং একটি চুক্তিতে পৌঁছাতে হবে। শান্তির জন্য এছাড়া অন্য কোনো উপায় নেই। তাই আমি এখানে জড়ো হয়েছি।’

বিক্ষোভ থেকে একজন বলেন, ‘যেহেতু আমরা গণতান্ত্রিক, তাই নির্বাচন ছাড়া আমরা তাকে ক্ষমতাচ্যুত করতে পারি না। আশা করছি আমাদের এই বিক্ষোভ ও জনমতের মাধ্যমে আমরা তাকে প্রভাবিত করতে পারবো।’

ইসরাইল ডেমোক্রেসি ইনস্টিটিউট-আই.ডি.আই নামে একটি স্বতন্ত্র থিঙ্ক ট্যাঙ্কের জরিপ দেখা গেছে, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে গাজার প্রতি সাধারণ ইসরাইলিদের সহানুভূতির পাল্লা ভারী হচ্ছে। জুলাইয়ের মাঝামাঝিতে চালানো জরিপে দেখা গেছে, ৭৪ শতাংশ ইসরাইলি চান গাজায় যুদ্ধ বন্ধ হোক এবং হামাসের সাথে একটি চুক্তিতে পৌঁছাক তাদের সরকার।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

লিচু সংরক্ষণে আধুনিক ও স্বল্প খরচের গবেষণা কার্যক্রম হাতে নেবে সরকার: বাণিজ্যমন্ত্রী

যুদ্ধ বন্ধের দাবিতে গাজা সীমান্তে বিক্ষোভ ইসরাইলিদের

Update Time : ০৬:১৩:৫৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৫

অবরোধ তুলে নেয়াসহ দ্রুত যুদ্ধ বন্ধের দাবিতে গাজা সীমান্তে জড়ো হয়ে এবার বিক্ষোভ করলেন শতশত ইসরাইলি। এসময় ইসরাইলের নিরাপত্তা কর্মকর্তারা বিক্ষোভকারীদের হাতে থাকা প্ল্যাকার্ড ছিঁড়ে ফেলার পাশাপাশি বেশ কয়েকজনকে আটক করলে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। এসময় নেতানিয়াহু প্রশাসনকে ক্ষমতাচ্যুত করতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বানও জানান অনেকে।

দ্বি-রাষ্ট্র সমাধানে ফিলিস্তিনের পক্ষে সমর্থন জোরালো করতে বিশ্ব নেতারা যখন জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশমুখী, ঠিক তখনই অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় আগ্রাসনের মাত্রা কয়েকগুণ বাড়িয়েছে ইসরাইল। হত্যা ও ধংসযজ্ঞ ছাড়াও জোর করে বাস্তুচ্যুত করা হচ্ছে নিরীহ ফিলিস্তিনিদের।

এ অবস্থায় ফিলিস্তিনিদের সমর্থনে বিশাল ব্যানার ও প্ল্যাকার্ড হাতে নেতানিয়াহু প্রশাসনের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন খোদ ইসরাইলিরাই। শ্লোগান দিতে দিতে গাজা সীমান্তে জড়ো হয়েছেন ইসরাইলি বিক্ষোভকারীরা। দাবি জানাচ্ছেন গাজায় যুদ্ধ ও গণহত্যা বন্ধের।

গাজার পক্ষে সীমান্তে জড়ো হওয়া ইসরাইলিদের দমাতে তাদের হাতে থাকা প্ল্যাকার্ড ছিঁড়ে ফেলতে দেখা গেছে নেতানিয়াহু প্রশাসনের নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের। চলে ধরপাকড়ও। এতে গাজা-ইসরাইল সীমান্তে ছড়িয়ে পড়ে উত্তেজনা।

এই উত্তেজনার পারদ ছড়িয়ে পড়েছে ইসরাইল অধিকৃত পূর্ব জেরুজালেমেও। সেখানেও ফুঁসে উঠছেন বহু ইসরাইলি। শরীরে লাল কাপড়ে মুড়িয়ে এবং প্ল্যাকার্ড নিয়ে মাটিতে শুয়ে বিক্ষোভ করতে দেখা যায় তাদেরকে। এসময়, নেতানিয়াহু প্রশাসনকে ক্ষমতাচ্যুত করতে ঐক্যের ডাক দেন বিক্ষোভকারীরা।

বিক্ষোভকারীদের মধ্যে একজন বলেন, ‘অনেক মানুষ প্রাণ হারাচ্ছেন। এর মধ্যে শিশু ও নিরীহ মানুষই বেশি। আমাদের সৈন্যরা এমন একটি যুদ্ধ করে যাচ্ছে যার প্রকৃত কোন লক্ষ্য নেই। আমাদের অবশ্যই এর একটি সমাধানের পথ খুঁজে বের করতে হবে। আলোচনার মাধ্যমে এ যুদ্ধের অবসান ঘটাতে হবে।’

অন্য একজন বলেন, ‘এ যুদ্ধ বন্ধ করতে হবে এবং একটি চুক্তিতে পৌঁছাতে হবে। শান্তির জন্য এছাড়া অন্য কোনো উপায় নেই। তাই আমি এখানে জড়ো হয়েছি।’

বিক্ষোভ থেকে একজন বলেন, ‘যেহেতু আমরা গণতান্ত্রিক, তাই নির্বাচন ছাড়া আমরা তাকে ক্ষমতাচ্যুত করতে পারি না। আশা করছি আমাদের এই বিক্ষোভ ও জনমতের মাধ্যমে আমরা তাকে প্রভাবিত করতে পারবো।’

ইসরাইল ডেমোক্রেসি ইনস্টিটিউট-আই.ডি.আই নামে একটি স্বতন্ত্র থিঙ্ক ট্যাঙ্কের জরিপ দেখা গেছে, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে গাজার প্রতি সাধারণ ইসরাইলিদের সহানুভূতির পাল্লা ভারী হচ্ছে। জুলাইয়ের মাঝামাঝিতে চালানো জরিপে দেখা গেছে, ৭৪ শতাংশ ইসরাইলি চান গাজায় যুদ্ধ বন্ধ হোক এবং হামাসের সাথে একটি চুক্তিতে পৌঁছাক তাদের সরকার।