Dhaka মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬, ৮ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আজিমপুর গণপূর্তে টেন্ডারবাজির রাজত্ব: নেপথ্যে ‘বহিরাগত’ বদিউল আলম সুইটের বিরুদ্ধে টেন্ডার বাজির অভিযোগ।

​রাজধানীর আজিমপুর গণপূর্ত বিভাগে এক শক্তিশালী দুর্নীতিবাজ সিন্ডিকেট গড়ে তোলার অভিযোগ উঠেছে। এই সিন্ডিকেটের অন্যতম হোতা হিসেবে নাম এসেছে জনৈক বহিরাগত ও স্থানীয় বিএনপি নেতা পরিচয়দানকারী বদিউল আলম সুইট-এর।অভিযোগ রয়েছে, নির্বাহী প্রকৌশলী ফয়সাল হালিমের সাথে যোগসাজশ করে তিনি সাধারণ ঠিকাদারদের জিম্মি করে কোটি কোটি টাকার টেন্ডারবাজি ও কমিশন বাণিজ্য চালিয়ে যাচ্ছেন।

​সম্প্রতি গণপূর্ত অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী বরাবর একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মালিক(নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক)একজন ঠিকাদার একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন,যেখানে বদিউল আলম সুইটের দুর্নীতির রোমহর্ষক বিবরণ উঠে এসেছে।
​অভিযোগের মূল পয়েন্টগুলো নিচে তুলে ধরা হলো:
​১০% অগ্রিম কমিশন বাণিজ্য: এলটিএম (LTM) পদ্ধতিতে কাজ পাইয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে প্রাক্কলিত মূল্যের ১০% টাকা অগ্রিম ঘুষ দাবি করেন সুইট।এই অর্থ লেনদেনে তিনি নির্বাহী প্রকৌশলীর মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাজ করেন। টাকা না দিলে টেন্ডার বাতিল করার হুমকি দেওয়া হয়।
​গোপন লটারি ও নিজস্ব সিন্ডিকেট: সরকারি ক্রয় বিধিমালা (PPR) উপেক্ষা করে সুইট ও তার সহযোগীরা নিজেদের পছন্দের ঠিকাদারদের একটি তালিকা তৈরি করেন।লটারির নামে মূলত গোপন আঁতাতের মাধ্যমে কাজ বণ্টন করা হয়, যেখানে সুইটের অনুসারীরাই অগ্রাধিকার পায়।
​পেশিশক্তির ব্যবহার ও ‘সবুজ সংকেত’: সাধারণ ঠিকাদারদের জন্য নিয়ম করা হয়েছে যে,বদিউল আলম সুইটের তথাকথিত ‘সবুজ সংকেত’ বা ক্লিয়ারেন্স ব্যতীত কেউ টেন্ডার ড্রপ করতে পারবে না। কেউ সাহস দেখালে তাকে সাইটে কাজ করতে বাধা প্রদান এবং প্রশাসনিকভাবে হেনস্তা করা হয়।
​অভিযোগকারী আরো জানান, তার লাইসেন্স ব্যবহার করে সুইট সচিবালয়ে ঠিকাদার সমিতির নেতা হয়েছেন এবং আজিমপুর গণপূর্ত বিভাগে ভুয়া লটারির মাধ্যমে কাজ বাগিয়ে নিয়েছেন।শুধু তাই নয়, দলীয় ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে অভিযোগকারীর কাছ থেকে ২৫% টাকা জোরপূর্বক আদায় করার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে
কোনো ঠিকাদার এই দুর্নীতির প্রতিবাদ করলে তাকে অডিটের ভয় দেখিয়ে বা বিধিভঙ্গের অজুহাতে ‘কালো তালিকাভুক্ত’ করার সরাসরি হুমকি প্রদান করেন সুইট ও সংশ্লিষ্ট সিন্ডিকেট।

প্রতিনিধি তথ্যসূত্রে জানা যায় ​ভুক্তভোগী ঠিকাদারদের মতে,আজিমপুর গণপূর্ত বিভাগে বর্তমানে এক ত্রাসের রাজত্ব কায়েম হয়েছে। অফিসের ভেতরে নির্বাহী প্রকৌশলীর প্রশাসনিক ক্ষমতা এবং অফিসের বাইরে বদিউল আলম সুইটের পেশিশক্তি মিলে সাধারণ ঠিকাদারদের কোণঠাসা করে ফেলেছে।
​এই অরাজকতা ও টেন্ডারবাজি বন্ধে এবং বহিরাগত হস্তক্ষেপকারী বদিউল আলম সুইটের বিরুদ্ধে উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানানো হয়েছে। অভিযোগের অনুলিপি গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী এবং সচিবসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরে পাঠানো হয়েছে।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

babu babu

জনপ্রিয় খবর

ডিএসসিসির উদ্যোগে ফুলে ভরে উঠলো ঢাকা মেডিকেল কলেজের সামনের ফুটপাত; দীর্ঘমেয়াদি সংরক্ষণে সকলের সহযোগিতা চাইলেন প্রশাসক

আজিমপুর গণপূর্তে টেন্ডারবাজির রাজত্ব: নেপথ্যে ‘বহিরাগত’ বদিউল আলম সুইটের বিরুদ্ধে টেন্ডার বাজির অভিযোগ।

Update Time : ০৪:২৫:৫৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ১ এপ্রিল ২০২৬

​রাজধানীর আজিমপুর গণপূর্ত বিভাগে এক শক্তিশালী দুর্নীতিবাজ সিন্ডিকেট গড়ে তোলার অভিযোগ উঠেছে। এই সিন্ডিকেটের অন্যতম হোতা হিসেবে নাম এসেছে জনৈক বহিরাগত ও স্থানীয় বিএনপি নেতা পরিচয়দানকারী বদিউল আলম সুইট-এর।অভিযোগ রয়েছে, নির্বাহী প্রকৌশলী ফয়সাল হালিমের সাথে যোগসাজশ করে তিনি সাধারণ ঠিকাদারদের জিম্মি করে কোটি কোটি টাকার টেন্ডারবাজি ও কমিশন বাণিজ্য চালিয়ে যাচ্ছেন।

​সম্প্রতি গণপূর্ত অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী বরাবর একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মালিক(নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক)একজন ঠিকাদার একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন,যেখানে বদিউল আলম সুইটের দুর্নীতির রোমহর্ষক বিবরণ উঠে এসেছে।
​অভিযোগের মূল পয়েন্টগুলো নিচে তুলে ধরা হলো:
​১০% অগ্রিম কমিশন বাণিজ্য: এলটিএম (LTM) পদ্ধতিতে কাজ পাইয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে প্রাক্কলিত মূল্যের ১০% টাকা অগ্রিম ঘুষ দাবি করেন সুইট।এই অর্থ লেনদেনে তিনি নির্বাহী প্রকৌশলীর মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাজ করেন। টাকা না দিলে টেন্ডার বাতিল করার হুমকি দেওয়া হয়।
​গোপন লটারি ও নিজস্ব সিন্ডিকেট: সরকারি ক্রয় বিধিমালা (PPR) উপেক্ষা করে সুইট ও তার সহযোগীরা নিজেদের পছন্দের ঠিকাদারদের একটি তালিকা তৈরি করেন।লটারির নামে মূলত গোপন আঁতাতের মাধ্যমে কাজ বণ্টন করা হয়, যেখানে সুইটের অনুসারীরাই অগ্রাধিকার পায়।
​পেশিশক্তির ব্যবহার ও ‘সবুজ সংকেত’: সাধারণ ঠিকাদারদের জন্য নিয়ম করা হয়েছে যে,বদিউল আলম সুইটের তথাকথিত ‘সবুজ সংকেত’ বা ক্লিয়ারেন্স ব্যতীত কেউ টেন্ডার ড্রপ করতে পারবে না। কেউ সাহস দেখালে তাকে সাইটে কাজ করতে বাধা প্রদান এবং প্রশাসনিকভাবে হেনস্তা করা হয়।
​অভিযোগকারী আরো জানান, তার লাইসেন্স ব্যবহার করে সুইট সচিবালয়ে ঠিকাদার সমিতির নেতা হয়েছেন এবং আজিমপুর গণপূর্ত বিভাগে ভুয়া লটারির মাধ্যমে কাজ বাগিয়ে নিয়েছেন।শুধু তাই নয়, দলীয় ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে অভিযোগকারীর কাছ থেকে ২৫% টাকা জোরপূর্বক আদায় করার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে
কোনো ঠিকাদার এই দুর্নীতির প্রতিবাদ করলে তাকে অডিটের ভয় দেখিয়ে বা বিধিভঙ্গের অজুহাতে ‘কালো তালিকাভুক্ত’ করার সরাসরি হুমকি প্রদান করেন সুইট ও সংশ্লিষ্ট সিন্ডিকেট।

প্রতিনিধি তথ্যসূত্রে জানা যায় ​ভুক্তভোগী ঠিকাদারদের মতে,আজিমপুর গণপূর্ত বিভাগে বর্তমানে এক ত্রাসের রাজত্ব কায়েম হয়েছে। অফিসের ভেতরে নির্বাহী প্রকৌশলীর প্রশাসনিক ক্ষমতা এবং অফিসের বাইরে বদিউল আলম সুইটের পেশিশক্তি মিলে সাধারণ ঠিকাদারদের কোণঠাসা করে ফেলেছে।
​এই অরাজকতা ও টেন্ডারবাজি বন্ধে এবং বহিরাগত হস্তক্ষেপকারী বদিউল আলম সুইটের বিরুদ্ধে উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানানো হয়েছে। অভিযোগের অনুলিপি গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী এবং সচিবসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরে পাঠানো হয়েছে।