রাজধানীর মুগদা থানার পাশে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের আবাসিক কোয়ার্টারের সামনে রাস্তা দখল করে অবৈধভাবে ওয়াল নির্মাণ করায় বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডকে পত্র দেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন।
ডিএসসিসির অঞ্চল২ ( খিলগাঁও) এর নির্বাহী প্রকৌশলী জহির আহমেদের স্বাক্ষরিত এক পত্রে বলা হয়,
গত ০৩ তারিখে এলাকাবাসীর অভিযোগের প্রেক্ষিতে সরেজমিনে কার্যস্থল পরির্দশনকালে দেখা যায় কতিপয় ব্যক্তিকর্তৃক মুগদা বিপিডিবি অফিসার্স কোয়ার্টার এর বাউন্ডারী ওয়ালের বাইরে সিটি কর্পোরেশন কর্তৃক রাস্তা সমতলে নির্মিত আরসিসি ফুটপাতের চার ফুট জায়গা দখল করে ওয়াল নির্মাণের জন্য সেন্টারিং ও রড বাধাই এর প্রস্তুতি গ্রহণ করা হচ্ছে।
তাৎক্ষণিকভাবে মুগদা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও সিটি কর্পোরেশনের পক্ষ থেকে উক্ত ব্যক্তিবর্গকে কাজটি বন্ধ রাখার জন্য নির্দেশনা প্রদান করা হয়। কিন্তু ০৪ তারিখে বিউবো প্রতিষ্ঠানের নিয়োজিত ঠিকাদার পরিচয়ে সিটি কর্পোরেশনের নির্দেশনা অমান্য করে সম্পূর্ণ অবৈধ ভাবে অফিসার্স কোয়ার্টারের বাউন্ডারী ওয়ালের বাইরে গেটের পশ্চিম পার্শ্বে সিটি কর্পোরেশনের রাস্তার ৪ ফুট ভিতরে ১০০.০০ ফুট দৈর্ঘ্যের আরসিসি বীম ঢালাই এর কাজ সম্পন্ন করেন।
চিঠিতে আরো বলা হয়, সিটি কর্পোরেশনের পানি নিষ্কাশনের ক্যাচপিট বন্ধসহ রাস্তা সরু হয়ে জনসাধারণ ও যানবাহন চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি হয় এবং এলাকাবাসীর মধ্যে সিটি কর্পোরেশনের রাস্তা দখল করে ওয়াল নির্মাণের কারণে অসন্তোষ এর সৃষ্টি হয়েছে।
বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে অবহিত হয়ে অবৈধভাবে নির্মিত আরসিসি বীমের প্রায় ৫০.০০ ফুট সিটি কর্পোরেশনের নিজস্ব উদ্যোগে ভেঙ্গে দেওয়া হয়েছে।
উল্লেখ্য যে, অবৈধভাবে রাস্তা দখল করে অবকাঠামো নির্মাণ করা হলে সিটি কর্পোরেশন আইন-২০১৬ অনুযায়ী জরিমানা ও মোবাইল কোর্ট পরিচালনার বিধান রয়েছে। মুগদা প্রধান সড়কের উন্নয়নের লক্ষে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক মহোদয় এঁর নির্দেশনায় এলাকাবাসী ও কর্পোরেশনের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে একটি উচ্চ পর্যায়ের কমিটি গঠন করা হয়েছে।
উক্ত কমিটি ও এলাকাবাসীর সহযোগীতায় মুগদা প্রধান সড়কের জলাবদ্ধতা ও যানজট নিরসনের লক্ষে রাস্তার উভয়পার্শ্বে রাস্তা সমতলে আরসিসি ফুটপাত নির্মাণসহ কার্পেটিং এর কাজ সম্পন্ন করে জনসাধারণ ও যানবাহন চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়েছে। উক্ত রাস্তা নির্মাণের দীর্ঘদিন পর রাস্তার জায়গা দখল করে আরসিসি ওয়াল নির্মাণের বিষয়টি সম্পূর্ণ অবৈধ এবং সিটি কর্পোরেশনের আইনের পরিপন্থী।
ডিএসসিসি’র পত্রের বিষয়টি সম্পর্কে জানতে চাইলে, বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড ডিরেক্টর সিভিল ওয়ার্কস হারাধন চন্দ্র দত্ত বলেন,জনস্বার্থে নির্মাণ বন্ধ আছে,তবে এক সময় সেখানে আমাদের বাগান ছিল,ঠিকাদার নিয়োগের বৈধতা প্রসঙ্গে তিনি বলেন ঠিকাদার তার নিজ উদ্যোগে কাজটি করেছে।
ঠিকাদার নিয়োগ ও অবৈধ ওয়াল নির্মাণ সম্পর্কে জানার জন্য বিউবো’র নির্বাহী প্রকৌশলী সানিকে একাদিকবার ফোন দিলেও ফোন রিসিভ করেন নি তিনি।
স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন ঠিকাদারের লোকজনের সাথে সিটি কর্পোরেশনের ইঞ্জিনিয়ারের কথা কাটাকাটি হয়,তবে আজ নির্মাণ কাজ বন্ধ আছে।
এলাকাবাসী আরো বলছেন, ওয়াল নির্মাণ করলে রাস্তা সরু হয়ে যায় এতে আমাদের চলাচলে অসুবিধা হবে।
নিজস্ব প্রতিবেদক 















