আবহাওয়ার পূর্বাভাস অনুযায়ী আগামীকাল (বৃহস্পতিবার, ১৮ সেপ্টেম্বর) রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। গতকাল (বুধবার, ১৭ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা ৬টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার আবহাওয়ার পূর্বাভাসে এ তথ্য জানায় আবহাওয়া অধিদপ্তর।
আবহাওয়া অধিদপ্তর জানায়, এ দিন রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় এবং ঢাকা, খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে।
আগামী ২৪ ঘণ্টায় দেশের কয়েকটি বিভাগে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাত হতে পারে। ফলে এই সময়ে নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে দেশের আরও ৪ জেলার নদী সংলগ্ন নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হতে পারে। পূর্বাভাসে এ আশঙ্কার কথা জানিয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র।
দেশের নদ-নদীর অবস্থা তুলে ধরে পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, বর্তমানে কুশিয়ারা নদীর অমলশিদ (সিলেট) পয়েন্টে বিপৎসীমার ৭৮ সেন্টিমিটার, ফেঞ্চুগঞ্জ পয়েন্টে বিপৎসীমার ১ সেন্টিমিটার এবং সুরমা নদীর কানাইঘাট (সিলেট) পয়েন্টে বিপৎসীমার ৮ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছে। এই অবস্থার মধ্যে আগামী ৪৮ ঘণ্টা (১৭ সেপ্টেম্বর সকাল ৯টা থেকে ১৯ সেপ্টেম্বর সকাল ৯টা) দেশের রংপুর, রাজশাহী, ঢাকা, ময়মনসিংহ, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগে এবং তৎসংলগ্ন উজানে ভারতের মেঘালয়, আসাম, পশ্চিমবঙ্গ, সিকিম, বিহার ও ত্রিপুরা প্রদেশে মাঝারি ভারী থেকে ভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে।
বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে, সুরমা নদীর পানি সমতল গত ২৪ ঘণ্টায় বৃদ্ধি পেয়েছে। অন্যদিকে কুশিয়ারা নদীর পানি সমতল স্থিতিশীল আছে। আগামী ২৪ ঘণ্টা এসব নদীর পানি স্থিতিশীল থাকতে পারে এবং বিপৎসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হতে পারে। তবে এই সময়ে সিলেট, সুনামগঞ্জ ও মৌলভীবাজার জেলার এসব নদী সংলগ্ন নিম্নাঞ্চলগুলোয় বিরাজমান বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হতে পারে। এছাড়া পরবর্তী ২ দিন পানি সমতল হ্রাস পেতে পারে।
এদিকে রংপুর বিভাগের তিস্তা ও ধরলা নদীর পানি সমতল গত ২৪ ঘণ্টায় বৃদ্ধি পেয়েছে বলে জানিয়েছে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র। পাশাপাশি দুধকুমার নদীর পানি সমতল এই সময়ে হ্রাস পেয়েছে। আগামী ২৪ ঘণ্টায় এসব নদীর পানি বৃদ্ধি পেতে পারে। ফলে এই সময়ে তিস্তা ও দুধকুমার নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করতে পারে এবং ধরলা নদীর পানি সতর্কসীমায় প্রবাহিত হতে পারে। এতে লালমনিরহাট, নীলফামারী, রংপুর ও কুড়িগ্রাম জেলার এসব নদী সংলগ্ন নিম্নাঞ্চলগুলো প্লাবিত হতে পারে। তবে পানি সমতল দ্বিতীয় ও তৃতীয় দিনে হ্রাস পেতে পারে।
এছাড়াও সিলেট ও ময়মনসিংহ বিভাগের সোমেশ্বরী, যাদুকাটা, ভুগাই, কংস ও জিঞ্জিরাম নদীর পানি সমতল গত ২৪ ঘণ্টায় বৃদ্ধি পেয়েছে। অন্যদিকে সারিগোয়াইন নদীর পানি সমতল হ্রাস পেয়েছে। আগামী একদিন এসব নদীর পানি সমতল বৃদ্ধি পেতে পারে এবং সিলেট, ময়মনসিংহ, নেত্রকোণা ও শেরপুর জেলার নদীগুলোর পানি সমতল সতর্কসীমায় প্রবাহিত হতে পারে। তবে দ্বিতীয় দিন এসব নদীর পানি সমতল স্থিতিশীল থাকতে পারে এবং তৃতীয় দিন তা হ্রাস পেতে পারে বলেও জানিয়েছে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র।
অনলাইন ডেস্ক 




















