ঢাকার মতো দ্রুত বর্ধনশীল মেগাশহরে জনসাধারণের অবাধ চলাচল নিশ্চিত করা এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর সুশৃঙ্খল কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে সোমবার নগর ভবন অডিটোরিয়ামে হকার ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ আবদুস সালামের সভাপতিত্বে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভাপতির বক্তব্যে ডিএসসিসি প্রশাসক বলেন, “ঢাকা শহর ও এর নাগরিকদের নাগরিক সুবিধা বহাল রাখতে হলে সুশৃঙ্খল হকার ব্যবস্থাপনার কোনো বিকল্প নেই। আমরা যেমন হকারদের জীবিকা বন্ধ করতে চাই না, তেমনি সারাদেশের ভাসমান মানুষকে হকার রূপে ঢাকায় পুনর্বাসন করাও সম্ভব নয়।”
হকার ব্যবস্থাপনা নীতিমালা কঠোরভাবে অনুসরণের ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি আরও বলেন, “আমরা সকলেই হকার সমস্যার একটি দীর্ঘস্থায়ী ও টেকসই সমাধান চাই। সরকার কর্তৃক জারিকৃত নীতিমালা অনুযায়ী নির্ধারিত ফি প্রদান সাপেক্ষে হকারদের নিবন্ধন, নিয়মিত নবায়ন এবং নির্ধারিত সড়ক ও সময়ে ব্যবসা করার শৃঙ্খলা মেনে চললেই এ সমস্যার টেকসই সমাধান সম্ভব।”
প্রশাসক বলেন, “মূল সড়কে কোনো ভাবেই হকার বসতে দেওয়া হবে না। কেবল যেসব রাস্তায় প্রশস্ত ফুটপাত রয়েছে সেসব নাগরিকদের চলাচলের জন্য উন্মুক্ত জায়গা সংরক্ষিত রেখে নির্দিষ্ট সংখ্যক নিবন্ধিত হকার বসানো হবে। অবশিষ্ট হকারদের জন্য হলিডে মার্কেট, নাইট মার্কেট চালু করা হবে। ”
উল্লেখ্য, রাজধানী ঢাকাকে পরিচ্ছন্ন, পথচারী-বান্ধব ও যানজটমুক্ত করতে স্থানীয় সরকার বিভাগ ‘ঢাকা শহরের হকার ব্যবস্থাপনা নীতিমালা-২০২৬’ প্রকাশ করেছে। স্থানীয় সরকার (সিটি কর্পোরেশন) আইন, ২০০৯-এর ১২০(২) ধারায় প্রদত্ত ক্ষমতাবলে ডিএসসিসি ও ডিএনসিসি এলাকায় এই নীতিমালা এবং এর আওতায় নির্দিষ্ট ফি নির্ধারণ করে পরিপত্র জারি করা হয়েছে।
নিবন্ধন, নবায়ন ও স্থান ব্যবহারের ফি/ভাড়া:
পরিপত্র অনুযায়ী নির্ধারিত ফি ও ভাড়ার বিবরণ:
১. এককালীন নিবন্ধন ফি: ৫,০০০/- (পাঁচ হাজার) টাকা।
২. বাৎসরিক নবায়ন ফি: ২,৫০০/- (দুই হাজার পাঁচশত) টাকা।
৩. মাসিক স্থান ব্যবহার ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ফি: স্থান ব্যবহার, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও সার্বিক ব্যবস্থাপনার জন্য প্রতি হকার মাসিক ৩,০০০/- (তিন হাজার) টাকা প্রদান করবেন।
‘হকার ব্যবস্থাপনা নীতিমালা-২০২৬’-এর মূল নির্দেশনাবলী:
• নিবন্ধন ও বারকোডযুক্ত লাইসেন্স: আবেদনকারীর বয়স ন্যূনতম ১৮ বছর ও বাংলাদেশের নাগরিক হতে হবে। নিবন্ধিত হকারদের ব্যবসার স্থান ও সময় উল্লেখসহ বারকোড/কিউআর কোডযুক্ত ডিজিটাল পরিচয়পত্র দেওয়া হবে।
• হলিডে ও নৈশকালীন মার্কেট (Night Market):
◦ হলিডে মার্কেট: শুধুমাত্র শুক্রবার, শনিবার ও সরকারি ছুটির দিনে সকাল ৭:০০ টা থেকে বিকাল ৫:০০ টা পর্যন্ত নির্ধারিত স্থানে (যেমন: সরকারি অফিসের সামনের প্রশস্ত রাস্তা বা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের চত্বর) পরিচালিত হবে।
◦ নৈশকালীন মার্কেট: বাণিজ্যিক এলাকায় অফিস সময় শেষে সন্ধ্যা ৬:০০ টা থেকে রাত ১০:০০ টা পর্যন্ত কার্যকর হবে। তবে মাঠ, উপাসনালয় বা কবরস্থানে কোনো মার্কেট বসানো যাবে না।
নারী ও প্রতিবন্ধী হকারদের অগ্রাধিকার: স্থান বরাদ্দের ক্ষেত্রে ৩০ শতাংশ জায়গা নারী ও প্রতিবন্ধী হকারদের জন্য সংরক্ষিত থাকবে।
পথচারী বান্ধব ফুটপাথ: ফুটপাথে পথচারী চলাচলের জন্য ন্যূনতম ১.৫ মিটার (প্রায় ৫ ফুট) জায়গা উন্মুক্ত রাখা বাধ্যতামূলক এবং কোনো স্থায়ী অবকাঠামো তৈরি করা যাবে না।
বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও সুশাসন: হকারদের নিজ দায়িত্বে স্থান পরিষ্কার রাখতে হবে এবং নির্ধারিত বিনে আবর্জনা ফেলতে হবে। লাইসেন্স ব্যতীত বা নির্দেশিত সীমানা লঙ্ঘন করে ব্যবসা করলে উচ্ছেদসহ নিবন্ধন বাতিল করা হবে।
মতবিনিময় সভায় ডিএসসিসি ও ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ, বিভিন্ন হকার সংগঠনের প্রতিনিধিবৃন্দ এবং বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাংবাদিকগণ উপস্থিত ছিলেন।
সাঈদুল হক মিঠু 









